সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ব্যবস্থাপনা - ডা. আলমগীর মতি MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ

গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ব্যবস্থাপনা

   - ডা. আলমগীর মতি
MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ
গর্ভাবস্থায় মা ও তার শিশুর সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত খাদ্য ব্যবস্থা। গর্ভস্থ শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নির্ভর করে মায়ের সঠিক খাদ্য ব্যবস্থার ওপর। একটি শিশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের প্রতিদিন প্রায় ৩০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে কোন খাবার খেতে হবে এবং কোনটি খাওয়া যাবে না, তা জেনে রাখা প্রত্যেক গর্ভবতীর জন্য জরুরি। গ্রহণীয় ও বর্জনীয় খাদ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো-
♦ গ্রহণীয় খাদ্য
ক্যালসিয়াম:
ক্যালসিয়াম হাড় গঠন ছাড়াও গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর করে। গর্ভাবস্থায় এবং শিশু জন্মের পর প্রতিদিন ১ হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খেতে হবে। এ জন্য নিয়মিত দুধ, ডিম, দই, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, পালংশাক, ব্রকলি, মাংস খেতে হবে।

আয়রন জাতীয় খাদ্য:
আয়রন জাতীয় খাবারের উৎস হচ্ছে- ডিমের কুসুম, ডাল, মাছ, কলিজা, মুরগির মাংস, ব্রকলি, পালংশাক, কুমড়া, সয়াবিন, মিষ্টিআলু, আঙুর, কমলা, তরমুজ, বাদাম ইত্যাদি।

ভিটামিন-সি:
গর্ভবতীর দিনে ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি প্রয়োজন। লেবু, পেয়ারা, আমলকী, কমলা, স্ট্রবেরি, পেঁপে, ফুলকপি, ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, টমেটো খেয়ে সে ঘাটতি পূরণ করা যায়। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন-সি জরায়ু সংকোচন ও শিশুর গঠন ব্যাহত করে।

অ্যাসিড:
ফলিক অ্যাসিড নিউরাল টিউবের কোষের অসঙ্গতি দূর করে। পালংশাক, লেটুসপাতা, ব্রকলি, কমলা, কলা, মুরগির কলিজা, টমেটোসহ সবুজ শাকসবজি ফলিক অ্যাসিডের উল্লেখযোগ্য উৎস।

ভিটামিন-এ:
ভিটামিন-এযুক্ত খাবার হচ্ছে- গাজর, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু, যে কোনো সবুজ শাক, লালশাক ইত্যাদি।

পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ:
গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি পানি ও অন্যান্য তরল দ্রব্য গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ে। এ জন্য পানি ছাড়াও ফলের রস, দুধ ইত্যাদি নিয়মিত পান করতে হবে।

♦ বর্জনীয় খাদ্য
মাছ:
গর্ভবতীর সপ্তাহে ১২ আউন্সের বেশি সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত নয়।

ক্যাফেইন:
গর্ভকালে কফি, চা, চকোলেট, কোমল পানীয় ইত্যাদি খাওয়া বর্জন করতে হবে। দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন পান ক্ষতিকর।

এ ছাড়া অ্যালকোহল বা অ্যালকোহল জাতীয় ওষুধ, কাঁচা ডিম বা দুধ, স্যাকারিন, আনারস, অপরিষ্কার ফল ও সবজি, দূষিত মাছ খাওয়া উচিত নয়। তাতে মা ও গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখক : বিশিষ্ট হারবাল
গবেষক ও চিকিৎসক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জীবনের গল্প : গরীব ঘরের এক শিক্ষার্থী

পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে কলেজ বন্ধ দেওয়ায় ছেলে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর ছেলে বাবাকে বলে যে, আব্বা আমার টাকা লাগবে, কত টাকা? ৫০০০ হাজার টাকা। কি করবি এত টাকা দিয়ে? ঈদের শপিং করবো। আব্বা আমার কথা শুনে আর কিছু না বলে,আমার হাতে ৫০০০টাকা তুলে দিলো। টাকা গুলি পেয়ে তো আমার আনন্দের সিমা নেই। এবার মন খুলে শপিং করতে পারবো। খুশিতে লুঙ্গি ড্যান্স দিলাম। তারপর টাকা গুলো লুকিয়ে রেখে চলে আসলাম বন্ধুদের আড্ডাতে। সবাইকে তো বলতে হবে,এবার এর ঈদের বাজেট টা। সবার থেকে এবার আমার ঈদের বাজেট বেশি, বন্ধুরাও সবাই বাহবা দিলো। সন্ধার আগে বাসায় ফিরলাম,ইফতার করে নামাজ পড়ে আর বাইরে বার হলাম না। শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছিলাম। এমন সময় পাশের রুমে থেকে বাবা মা এর চাপা কন্ঠ ভেসে আসলো কানে। <ওগো শুনছো? <হ্যা বলো। তুমি আকাশকে সব টাকা দিয়ে দিলে তো তুমি কি শপিং করবা আর ঈদের বাজার ও তো করতে হবে,কিছুই তো করা হয় নি। ৫০০০ টাকাই ছিলো। ছেলের কথাই সেটাও বার করে দিলে। <চিন্তা করো না,কারো কাছ থেকে ধার করে নিবো টাকা,আর আকাশ তো এখন কলেজে উঠেছে বড় লোক ছেলেদের সাথে তাকে মিশতে হয়। তাদের মতন না হল...

ম্যানথলের উপকারিতা.......... - ডা. আলমগীর মতি MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ

ম্যানথলের উপকারিতা..........                             - ডা. আলমগীর মতি                            MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ। মুখের যত্নে ম্যানথল: ম্যানথলে ব্যাকটেরিয়ানাশক ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মুখের যত্নে অতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। ম্যানথল ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে দাঁতের ক্ষয়, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করে এবং দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখে। ইদানীং ম্যানথল টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ ও দন্তরোগের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন কিছু পুদিনাপাতা খেলে দন্ত সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ব্যথা প্রতিরোধ করে: যে কোনো ব্যথায় পুদিনার নির্যাস ব্যবহার করা হয়। কারণ শরীরের যে কোনো জায়গায় ব্যথা অনুভূত হলে ম্যানথল সে জায়গায় শীতল অনুভূতি দেয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ম্যানথল মাংসপেশি শীতল রাখে এবং শরীরে প্রশান্তি অনুভূত হয়। গর্ভবতীকে সুস্থ রাখে: গর্ভবতী নারীদের জন্য ম্যানথল খুব উপকারী। গর্ভবতী নারীদের যখন বমি বমি ভাব...

সকালের খাবারটা হোক পরিমাণমতো

সকালের খাবারটা হোক পরিমাণমতো......... - ডা. আলমগীর মতি MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ। www.modernherbalbd.com খাবার-দাবারের মধ্যে সকালের নাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা তাই বলেন। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন কথাই। আমরা ভাবি, সকালে কম খাওয়া ভালো এবং সে খাবারতালিকায় যেনতেন খাবার হলেই হলো। কিন্তু সকালে কম খেয়ে সারাদিন যা খুশি তাই খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার পর যা খুশি তাই খেলে ওজন তো কমবেই না, বরং অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গবেষকদের পরামর্শ হলো, সকালে পরিমাণমতো নাস্তা খাওয়াই ভালো। এ নাস্তার মধ্যে থাকতে পারে এক কাপ চা বা কফি, যা পান করলে নিজের মেজাজ ভালো থাকবে। তবে একাধিক কাপ চা বা কফি পানের অভ্যাস মোটেও ভালো নয়। তাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শরীরে পড়তে পারে তার খারাপ প্রভাব। সকালে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার না খেয়ে শসা, ফল, বাদাম জাতীয় খাবার খেলে শরীর ভালো থাকে। শত তাড়ার মধ্যে সকালে ডিম ভাজা দিয়ে খাবার সেরে ঘর থেকে বের হলেও মন্দ হয় না। বরং ...