সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

♥ অসাধারণ এক জন রিক্সাওয়ালার গল্প ♥ রিক্সা চালাই। বিয়ে করেছিলাম

♥ অসাধারণ এক জন রিক্সাওয়ালার গল্প ♥

রিক্সা চালাই। বিয়ে করেছিলাম
আজ থেকে এক বছর আগে।আমার মতই এক
গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি।
,
অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে
নিয়েছিলো ও।বুঝতে পারি বউ আমায় খুব ভালবাসে।
আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি,ও আমার জন্য
গোছলের পানি তুলে দেয়।মাঝেমাঝে আমিও
অবশ্য তুলে দেই।
বাড়িতে কারেন্ট নাই,খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে
বাতাস করে।
গরমের রাতে দুজনে অদল বদল করে পাখা দিয়ে
বাতাস করি,ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে।
গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম
বুঝতে পারতামনা।
,
রিক্সায় বড়বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত।
দুজনে মিলে অনেক গল্প করত।
সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে
করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান, পার্টি না
কি জানি করে ।এই সব আমার জানা নেই।
যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত বউকে একটা
শাড়ী কিনে দিতে।বউকে যে খুব ভালবাসি আমি।
কিন্তু পারিনা।অভাবের সংসার, দিন আনি দিন
খাই।তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম।ওটাতে রোজ
দু'চার টাকা করে
ফেলতাম।
,
দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা
বছর হয়েগেল।
আজ সকালে
রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে বউ যখন রান্না ঘরে
গেল তখন বউকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির
ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে
প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে।
বাসা থেকে বের হবার আগে বউকে বলেছিলাম,
আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে।
বউ মাথা নাড়ে,বলে ভালো কইরা থাকবেন।
চলেগেলাম রিকশা নিয়ে।
সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে
গিয়েছিলাম
বউয়ের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য।
আজরাতে বউকে দিব।
,
ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম,পছন্দ হয়
কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা।
অবশেষে দোকানীকে বললাম,
--ভাই এই কাপড়টার দাম কত?
--১৫০০ টাকা।
আমার কাছে তো আছে মাত্র ৪৮০ টাকা।তাই ফিরে
আসলাম। মার্কেট থেকে বের হয়ে
বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০
টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।
মাঝেমধ্যে ভাবি,এই দোকান গুলো যদি না
থাকত,তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের।
ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম।
অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে
পারব,ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার।
,
রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি।
বারটা বাজার
অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি।
কল্পনার জগতে ভাসছিলাম,বউকে দেবার পর
বউ কি বলবে?কতটা খুশি হবে?
__
রাত বারটা বেজে গেল।বউকে ডেকে
তুললাম।
ডেকে তুলে বউয়ের হাতে
শাড়ীটা তুলে দিয়ে
বললাম, বউ আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।আজকের
তারিখে তুমি আমার এই কুড়ে ঘরটাতে এসেছিলে।
আমার পক্ষথেকে তোমার জন্য এই ছোট্ট
উপহার।
বউ শাড়িটা বুকে জড়ায়,চোখ দিয়ে পানি ঝরতে
থাকে ওর।
তারপর উঠে গিয়ে ট্রাঙ্কটা খুলে শাড়িটা রেখে
দেয়।
তারপর কি যেন বের
করে।
আমি উকি মেরে দেখার চেষ্টা করেও দেখতে
পাইনা।
বউ ট্রাঙ্কটা বন্ধ করে আমার হাতে
একটা লুঙ্গি দিল।কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম আমি। কারন
টাকা পেল কোথায়? জিজ্ঞাসা করলাম,
--টাকা পেলে কোথায় তুমি?
--অনেকদিন আগে থেকে প্রত্যেকদিন একমুঠ
করে চাল খাবারের চাল থেকে আলাদা করে
জমিয়ে রাখতাম।জমিয়ে জমিয়ে কিছুদিন আগে
পাশের বাসার ভাবির কাছে বিক্রি করে দিছি।সেই টাকা
দিয়ে লুঙ্গি কিনছি।ভাবছিলাম আজকে দিব, আপনি তো
এসেই ঘুমিয়ে পরলেন।তাই ঠিক করছিলাম কাল
সকালে দিবো।
আমি কিছু বলতে পারলামনা।শুধু লুঙ্গিটা
উল্টিয়েপাল্টিয়ে
দেখছিলাম।
তারপর বললাম,শুনছি বড় সাহেবরা নাকি বিয়ের দিন
তারিখে কেক কাটে।
বউ বলে,আমাদের কি অত টাকা আছে?
--বাসায় মুড়ি আছে।
--আছে।
--যাও সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি নিয়ে এসো।সাথে
একটা কাঁচামরিচ
আর একটা পিয়াজ আনিও।
--আচ্ছা দাড়ান আনতেছি।
টিনের ফাক আর জানালা দিয়ে চাঁদের আলো
আসতেছে।দুজন জানালার পাশে বসে মুড়ি খাচ্ছি,
আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পালন করছে
__
ছোট ছোট গিফট আর অফুরন্ত ভালবাসায় বেঁচে
থাকুক আমাদের মত রিকশা ওয়ালাদের জীবন.......... (সংগৃহীত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জীবনের গল্প : গরীব ঘরের এক শিক্ষার্থী

পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে কলেজ বন্ধ দেওয়ায় ছেলে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর ছেলে বাবাকে বলে যে, আব্বা আমার টাকা লাগবে, কত টাকা? ৫০০০ হাজার টাকা। কি করবি এত টাকা দিয়ে? ঈদের শপিং করবো। আব্বা আমার কথা শুনে আর কিছু না বলে,আমার হাতে ৫০০০টাকা তুলে দিলো। টাকা গুলি পেয়ে তো আমার আনন্দের সিমা নেই। এবার মন খুলে শপিং করতে পারবো। খুশিতে লুঙ্গি ড্যান্স দিলাম। তারপর টাকা গুলো লুকিয়ে রেখে চলে আসলাম বন্ধুদের আড্ডাতে। সবাইকে তো বলতে হবে,এবার এর ঈদের বাজেট টা। সবার থেকে এবার আমার ঈদের বাজেট বেশি, বন্ধুরাও সবাই বাহবা দিলো। সন্ধার আগে বাসায় ফিরলাম,ইফতার করে নামাজ পড়ে আর বাইরে বার হলাম না। শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছিলাম। এমন সময় পাশের রুমে থেকে বাবা মা এর চাপা কন্ঠ ভেসে আসলো কানে। <ওগো শুনছো? <হ্যা বলো। তুমি আকাশকে সব টাকা দিয়ে দিলে তো তুমি কি শপিং করবা আর ঈদের বাজার ও তো করতে হবে,কিছুই তো করা হয় নি। ৫০০০ টাকাই ছিলো। ছেলের কথাই সেটাও বার করে দিলে। <চিন্তা করো না,কারো কাছ থেকে ধার করে নিবো টাকা,আর আকাশ তো এখন কলেজে উঠেছে বড় লোক ছেলেদের সাথে তাকে মিশতে হয়। তাদের মতন না হল...

ম্যানথলের উপকারিতা.......... - ডা. আলমগীর মতি MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ

ম্যানথলের উপকারিতা..........                             - ডা. আলমগীর মতি                            MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ। মুখের যত্নে ম্যানথল: ম্যানথলে ব্যাকটেরিয়ানাশক ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মুখের যত্নে অতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। ম্যানথল ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে দাঁতের ক্ষয়, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করে এবং দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখে। ইদানীং ম্যানথল টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ ও দন্তরোগের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন কিছু পুদিনাপাতা খেলে দন্ত সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ব্যথা প্রতিরোধ করে: যে কোনো ব্যথায় পুদিনার নির্যাস ব্যবহার করা হয়। কারণ শরীরের যে কোনো জায়গায় ব্যথা অনুভূত হলে ম্যানথল সে জায়গায় শীতল অনুভূতি দেয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ম্যানথল মাংসপেশি শীতল রাখে এবং শরীরে প্রশান্তি অনুভূত হয়। গর্ভবতীকে সুস্থ রাখে: গর্ভবতী নারীদের জন্য ম্যানথল খুব উপকারী। গর্ভবতী নারীদের যখন বমি বমি ভাব...

সকালের খাবারটা হোক পরিমাণমতো

সকালের খাবারটা হোক পরিমাণমতো......... - ডা. আলমগীর মতি MxN মডার্ণ হারবাল গ্রুপ। www.modernherbalbd.com খাবার-দাবারের মধ্যে সকালের নাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা তাই বলেন। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন কথাই। আমরা ভাবি, সকালে কম খাওয়া ভালো এবং সে খাবারতালিকায় যেনতেন খাবার হলেই হলো। কিন্তু সকালে কম খেয়ে সারাদিন যা খুশি তাই খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার পর যা খুশি তাই খেলে ওজন তো কমবেই না, বরং অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গবেষকদের পরামর্শ হলো, সকালে পরিমাণমতো নাস্তা খাওয়াই ভালো। এ নাস্তার মধ্যে থাকতে পারে এক কাপ চা বা কফি, যা পান করলে নিজের মেজাজ ভালো থাকবে। তবে একাধিক কাপ চা বা কফি পানের অভ্যাস মোটেও ভালো নয়। তাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শরীরে পড়তে পারে তার খারাপ প্রভাব। সকালে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার না খেয়ে শসা, ফল, বাদাম জাতীয় খাবার খেলে শরীর ভালো থাকে। শত তাড়ার মধ্যে সকালে ডিম ভাজা দিয়ে খাবার সেরে ঘর থেকে বের হলেও মন্দ হয় না। বরং ...