বিদায় কতটা কষ্টের,
কতটা রক্তক্ষরণ হয় বুকের ভেতরে সেটা কেবল বিদায়ী-ই বোঝে!
প্রিয়মুখগুলো,
সবাই অনেক অনেক ভালো থেকো।
আল্লাহ তোমাদের মঙ্গল করুন।
খুব মিস করবো বন্ধু তোমাদের চিরককাল!
হৃদয়ে অবিরত রক্তক্ষরণ।
শুধু বোবা আর্তনাদ।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর সময় কলেজ জীবনে অজান্তেই অসংখ্য স্মৃতির মাঝে নিজেকে হারিয়ে পাওয়া সাধের বন্ধুদের ফেলে যাওয়ার অনুভূতি নিশ্চয় দু’একটি কথায় প্রকাশ করা কঠিনতম কাজের একটি।
সুখ-দুঃখ, রেষারেষি, সময়ে-অসময়ে, কাজে-অকাজে পাশে পাওয়া বন্ধুরা হৃদয় মন্দিরে চিরসবুজ থাকলেও বাস্তবতার কঠিন নিয়ম সবাইকে দূরে ঠেলে দেয় একসময়।
চলে যেতে হয় অনেক অনেক দূরে। দেখা হয় হয়তো গোলাকার পৃথিবীর কোন এক কানাগলিতে। হটাৎ। হয়তোবা দেখা মিলে না আর কোন এক বন্ধুটির সাথে।
ভাবনাটা যত নিষ্ঠুরই মনে হোক এটাই বাস্তবতা! এটাই সত্য! এটাই নিয়ম!
‘শেষ, শেষ, শেষ এবং শেষ!
আজই শেষ দিন!
এখনও পর্যন্ত ভাবতে পারছি না। আমি বিভ্রান্ত। সময় খুবই নিষ্ঠুর!
‘শেষ পর্যন্ত সব শেষ হয়ে গেল! আর কখনও সবাই একসাথে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, ঝগড়া, দুষ্টামি করা হবে না।’
সত্যিই, সেই কবে থেকেই যেন মনে হচ্ছিল এই বুঝি বেজে উঠলো বিদায়ের ঘন্টা। অবশেষে ঠিকই হৃদয়ের বাঁধনকে রিক্ত-রুষ্ট করে ছিঁড়ে গেল নিয়মের বাঁধন। বেজে উঠলো অআনুষ্ঠানিক বিদায়ের করুণ সুর।
চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৯তম ব্যাচের অআনুষ্ঠানিক বিদায়ক্ষণ- ‘আজ ২২ অক্টোবর, ২০১৫’।
অআনুষ্ঠানিক বিদায়ের ব্যবস্থা করে নিজাম-তুষার-সোহরাব-তানজিমরা যেন আমাদের একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্তই উপহার দিল বিভাগের সাথে জীবনের বন্ধনটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার।
বন্ধু, শিক্ষকদের কড়া শাসন সবকিছুইতো এই বিভাগের কল্যাণে।
পড়াশোনার পাশাপাশি নানা উদযাপন আর খেলাধুলা দিয়ে মাতিয়ে রাখা বিভাগটি কি পারবে আমাদেরকে এত সহজে ভুলে যেতে ?
হয়তো পারবে না।
তাইতো বিদায় ক্ষণে বিভাগের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণও আমাদের বিদায়ের করুণ সুরে সুর মিলিয়েছে।
হে আমাদের প্রিয় শিক্ষকগণ! আপনারা আপনাদের হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে ধন্য করার জন্য আপনাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ।
হে বন্ধু, তোরা আমাকে ক্ষমা করিস, কারণ আমার সাথে কাজে অকাজে কম-বেশি সবার সাথে তর্ক হয় বলে।
আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি সবার সাথে ভালো থাকতে, কিন্তু আমি সবার সাথে ভালো থাকতে পারিনি।
বন্ধ! তোরা যে যেখানেই থাকিস না কেন, ভালো থাকিস, সুস্থ্য থাকিস, পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়ে সুন্দর, উজ্জ্বল ও আলোময় জীবনের প্রত্যাশাই শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ
পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে কলেজ বন্ধ দেওয়ায় ছেলে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর ছেলে বাবাকে বলে যে, আব্বা আমার টাকা লাগবে, কত টাকা? ৫০০০ হাজার টাকা। কি করবি এত টাকা দিয়ে? ঈদের শপিং করবো। আব্বা আমার কথা শুনে আর কিছু না বলে,আমার হাতে ৫০০০টাকা তুলে দিলো। টাকা গুলি পেয়ে তো আমার আনন্দের সিমা নেই। এবার মন খুলে শপিং করতে পারবো। খুশিতে লুঙ্গি ড্যান্স দিলাম। তারপর টাকা গুলো লুকিয়ে রেখে চলে আসলাম বন্ধুদের আড্ডাতে। সবাইকে তো বলতে হবে,এবার এর ঈদের বাজেট টা। সবার থেকে এবার আমার ঈদের বাজেট বেশি, বন্ধুরাও সবাই বাহবা দিলো। সন্ধার আগে বাসায় ফিরলাম,ইফতার করে নামাজ পড়ে আর বাইরে বার হলাম না। শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছিলাম। এমন সময় পাশের রুমে থেকে বাবা মা এর চাপা কন্ঠ ভেসে আসলো কানে। <ওগো শুনছো? <হ্যা বলো। তুমি আকাশকে সব টাকা দিয়ে দিলে তো তুমি কি শপিং করবা আর ঈদের বাজার ও তো করতে হবে,কিছুই তো করা হয় নি। ৫০০০ টাকাই ছিলো। ছেলের কথাই সেটাও বার করে দিলে। <চিন্তা করো না,কারো কাছ থেকে ধার করে নিবো টাকা,আর আকাশ তো এখন কলেজে উঠেছে বড় লোক ছেলেদের সাথে তাকে মিশতে হয়। তাদের মতন না হল...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন